চন্ডালিকা

STORY AND ARTICLE:

চন্ডালিকা
____________
সৌম্য ঘোষ
—————————

চণ্ডালিকা সামাজিক চিত্র চিত্রিত। এর ঘটনা নিম্নবিত্ত সমাজের। সমাজের নিম্নবিত্তদের দুঃখ দুর্দশার কাহিনী এর প্রতিপাদ্য বিষয়। সমাজের নিচু স্তরের মানুষ যাদের ছায়া মাড়ালেও ব্রাহ্মণ উচ্চবিত্ত সমাজকে পতিত হতে হয় জীবনের সব আনন্দ, চাওয়া পাওয়া এই নিম্নবিত্ত সমাজে নিষিদ্ধ ছিল। এই সমাজের মেয়ে চণ্ডালিকা।

সমস্ত প্রার্থীব বস্তু পাওয়ার বাধা তার মনকে ব্যাকুল করে। সে আনমনা হয়ে পড়ে। তার মা বারবার তাকে নিজের জন্মের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ও নিজের কাজে মন দিতে বলে। এমনই একটি দিনে গাভী শিশুকে স্নান করানাের সময় চণ্ডালিকার জীবনে আসেন দেব পুরুষ সন্ন্যাসী আনন্দ। চণ্ডালিকার জীবনে মহাপুরুষ আনন্দ, আনন্দ নিয়ে আসেন। তিনি চণ্ডালিকার কাছে তৃষ্ণার জল চান। কিন্তু চণ্ডালিকা শিহরিয়া উঠে বলে, আমি চণ্ডালের কন্যা, ”তােমারে দিব জল এ হেন পুণ্যের আমি নহি অধিকারিণী”। আনন্দ বলেন “যে মানব আমি, সেই মানব তুমি কন্যা, সেই বারি তীর্থ বারি”। এই উত্তর চণ্ডালিকার জীবনের মূল্যবােধকে এক নব চেতনা দান করে। সে তার মাকে বলে, ‘আমি চন্ডালি সে যে মিথ্যা ……..। রাজার বংশে দাসী জন্মায় অসংখ্য আমি সে দাসী নই। দ্বিজের বংশে চন্ডালি কত আছে, আমি নই চন্ডালী’। এ তো তার নবজন্ম। কিন্তু সেখানে সাধারণ মেয়ে চন্ডালী আনন্দকে সাধারণ প্রেমাস্পদ হিসাবে পেতে চায়। মাকে জাদু করে তাকে তার কাছে এনে দিতে বলে। অনেক কষ্টে মা নিজের জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে মহাপুরুষ আনন্দকে মন্ত্র সাধনার উচ্চমার্গ থেকে টেনে আনে। চণ্ডালিকার সাধারণ চাওয়া পাওয়ার আশা। তাতে এই মহান সাধকের লজ্জিত অবস্থা দেখে সত্যের আসল রূপ দেখে মনােবেদনায় আহত হয়। সে প্রকৃত জীবন দর্শন উপলব্ধি করে। এখানে দেহজ প্রেমের থেকে হৃদয় প্রেম বড় হয়ে ওঠে। নিজেকে জানার উপলব্ধি জাগে। আমি কারাের থেকে ছােট নই এই উপলব্ধি ঘঠে। অন্ত্যজ বলে নিজেকে আর ঘৃণা করতে শেখায় না। সে বলে ওঠে, “প্রভু, এসেছ উদ্ধারিতে আমায়, দিলে তার এত মূল্য, নিলে তার এত দুঃখ। ক্ষমা করো, ক্ষমা করো– মাটিতে টেনেছি তোমারে, এনেছি নীচে, ধুলি হতে তুলি নাও আমায় তব পুণ্যলোকে। ক্ষমা করো। জয় হোক তোমার জয় হোক।” এখানেই চণ্ডলিকার মানসিক উত্তরণ কাহিনীর যবনিকা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top