জন্মদিন

#জন্মদিন
#শম্পা_সাহা

“জন্মদিনটা ওখানে করলে হয় না?”
“কোনখানে?”
“আমাদের স্কুলের পেছনে”,
“কেন ওখানে কেন?”
“সিস্টার বলেছে সব সময় ভালো জিনিস শেয়ার করতে হয়।”
“তো?”
“আসলে মাম্মাম ওরা কতো গরীব,ছেঁড়া জামা পড়ে থাকে।খেতেও পায় না।জানো সেদিন রূপসা বলছিল,ওর হাত থেকে আইসক্রিমটা খেতে খেতে পড়ে গেল,আর একটা বাচ্চা ওটাই তুলে খেল!”
“হুঁম।”
তাড়াতাড়ি মেয়ের হাত ধরে লরেটো কনভেন্টের পেছনের বস্তিটুকু পার করতে চায় ঋতিকা।

“আচ্ছা মাম্মাম আমার জন্মদিনে আইসক্রিম তো হবে?”
“হুম।হবে তো ।”
“তাহলে এখানে জন্মদিনটা করবো আর ওদের সবাই কে কেক আর আইসক্রিম দেবো।”
“আচ্ছা সে দেখা যাবেখন।”

তাড়াতাড়ি মেয়ে নিয়ে ফ্লাটে ঢুকে হাত পা ধুয়ে এ সি চালিয়ে বসে ঋতিকা।উঃ!কি গরম!এই দুপুরে মেয়ে আনতে যাওয়া বেশ হ‍্যাপা।

এদিকে রিমঝিম বায়না ধরেছে ওর জন্মদিনটা ওদের স্কুলের পেছনের বস্তিতেই করতে হবে।ঋতিকা ভীষন বিরক্ত।স্কুলে যে কিসব শেখায়!কিন্তু সিস্টার বলেছেন তাই কথাটা ভুলও বলা যাবে না।

মেয়েকে ভুলিয়ে ভালিয়ে কোনোরকমে চুপ করানো গেছে।তবু মাঝে মাঝেই সে বায়না জুড়ছে,আর রায়ণ,ঋতিকা তাকে নানা ভাবে বোঝাচ্ছে।

“ওখানে জন্মদিনের পার্টি কি করে হবে?ওই জায়গাটা কি পিসীমণি বা দাদানরা চেনে না সোহম আঙ্কেলরা বল?”
রিমঝিম গোঁজ হয়ে থাকে।বোঝা যায় ব‍্যবস্থাটা ওর খুব একটা পছন্দ নয়।

জন্মদিনের দুপুর, বারোটা বাজলেই কেক কাটা হবে।ফ্ল‍্যাটে ভর্তি লোকজন।কিন্তু রিমঝিম কই? খোঁজ খোঁজ, ববদের ফ্ল‍্যাট,মিনিদের ফ্ল‍্যাট,টুবাই দের ফ্ল‍্যাট।সারা অ্যাপার্টমেন্ট তন্নতন্ন, কিন্তু রিমঝিম কই?

বাইক নিয়ে রায়ণ বের হয়,পেছনে রিমঝিমের বড় মামা।এদিক ওদিক ঘুরে স্কুলের পাশের বস্তিটার পাশ থেকে যেতে গিয়ে চোখে পড়ে একটা জটলা মতন।বেশ কয়েকটা বাচ্চা ভিড় করেছে।দুয়েকজন বড় ও আছে!কি ব‍্যাপার? বাইক থামিয়ে রায়ণ এগিয়ে যায় ।

একি! রিমঝিম কে ঘিরে ওরা গোল করে দাঁড়িয়ে।রিমঝিমের হাতে একটা প্লাস্টিক প‍্যাকেট।ওর থেকে মুঠো করে করে চকলেট বের করে দিচ্ছে সেই বাচ্চাদের হাতে।নাকে ,গালে নোংরা, ছেঁড়া ফ্রক,জট পড়া চুল,সব বাচ্চারা রঙিন মোড়কে মোড়া চকলেট খুলে পরম খুশিতে জিভ দিয়ে চাটছে।বড়দের ও দিচ্ছে রিমঝিম।

“নাও,নাও না।আজ তো আমার হ‍্যাপি বার্থ ডে!”
এই চকলেট গুলো তো বাচ্চাদের রিটার্ন গিফট হিসাবে আনা!

সত‍্যিই তো এই বাচ্চাদের মুখে যে আনন্দ খেলে বেড়াচ্ছে তা যারা রোজ এসব ভালো ভালো খাবারে অভ‍্যস্ত তাদের মুখে কি দেখা যাবে?

ওকে দেখে রিমঝিম ছুটে আসে,পেছন পেছন পাশের ফ্ল্যাটের সিক্সে পড়া ববি।ওই বোধহয় রিমঝিম কে সঙ্গে করে এনেছে।

“দেখ দেখ বাপী,ওরা কত্তো হ‍্যাপি!”
রায়ণ মেয়েকে জড়িয়ে, দুহাতে কোলে তুলে নেয়।আজ ওর এই টুয়ে পড়া মেয়ে বুঝিয়ে দিল সত‍্যিকারের আনন্দ আসলে কি?

রায়ণ মেয়ের গালে একটা চুমু খেয়ে জিজ্ঞাসা করে,
“ওদের শুধু চকলেট দিলে?”
“কেকটা যে বড়,আমি আনতে পারিনি বাপী”
“কিন্তু জন্মদিনে যে কেক দিতে হয়! ”
“তাহলে কি হবে?”
রিমঝিম বিশাল চিন্তায় পড়ে।ততক্ষণে রিমঝিমের মামা বিরাট কেক নিয়ে উপস্থিত।

ওরা ওখানেই কেক কাটার ব‍্যবস্থা করে।রায়ণ উপস্থিত লোক গুনে কয়েক প‍্যাকেট বিরিয়ানির ও অর্ডার দেয়।যতই হোক রিমঝিমের জন্মদিন বলে কথা!

©®

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top