নারীজীবন – সুদীপ ঘোষাল

নৌকা নোঙর করে মানুষ নিজের ভাবে, একদম নিজের
অথচ বিশ্বাসভঙ্গের ভয় ঘাটজুড়ে বোঝে না রহস্যমাখা নারীজীবন
মনে মনে আকাশগঙ্গায় ভাসে কোন হৃদয় লোহার শেকলে বাঁধে নৌকা
গঙ্গা লহর তুলে ছিঁড়ে নেয় খিদের আহার প্রেমিক ফেরে বিরহবাসর সাজিয়ে হৃদয়

শক্ত দড়িতে বেঁধেছি হৃদয় তোমার জয় তোমার জয়

তোমাকে ভুলতে পারিনা আর তুমি আমার তুমি আমার

হৃদয় চুঁইয়ে কত রক্ত তবু অনুতপ্ত আজ অনুতপ্ত
দুদন্ড ধার্মিক বিকেলে
বিফলতাগুলো ছুঁড়ে মারি বারান্দা থেকে আশার আলোয়
একলব্য সাহসি সূর্য হতে পারে
এক বেকার বিকেলজুড়ে চা পাতার সুবাস
ছেঁড়া স্মৃতির পাতাজুড়ে স্নাতক প্রেমিক
প্রহর গোণে সুনীলের নীরা হয়ত এখনও প্রতিক্ষায় কবিতা লেখে
কথামালা জমিয়ে রাখে কালের গর্ভে
আমিও সখি ছুঁড়ে মারি আহত বাতাস
কত সকাল বসে আছে নিশ্চিত রোজগেরে সৈকতে

যে দিকটায় কেউ যায় না পুরোনো অপ্রচলিত নেশায় রংচটা পাথুরে ঘাট
দৃঢ় বিকেল ভেদ করে সেদিকে ছুটে যায়
যৌবনের জোয়ার
পুরোনো যা কিছু সবই নতুন হয় স্মৃতির কলমে
এ জীবন কি ফিরে আসে রসিক দেহমনে?
সাজে ফুল ফল ও বৈভবে
চন্দন ফোঁটায় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
আর ফিরবে না বাসন্তী বসন্তদেহ
চলে যায় সহজপাঠের পথে, নিত্যনিয়মে
তবু এত গর্বিত ঋতু, অর্থমোহ মাখে আজীবন গার্হস্থ্যহৃদয়ে..

আশা পূর্ণ হলে সহজে নাচে পুরোনো শৈশব পোহানো
খেলনার ঠুংরি
গাছে গাছে যুবতী ভ্রমরের গান সামাল সামাল আদুরে বাতাসের ঢেউ
ফিরবে না কি মোহময় রাত? ঘটি হারিও না ঘাটের উল্লাসে
তারপর প্রভাতি উৎসবে
ঝেঁপে আসুক বৃষ্টির অতৃপ্ত ঝাপানের গান

নদীর সেতুজুড়ে পূর্বরাগ ধীরে ধীরে ফাগুন আনে
দুই তীর জুড়ে তুমুল প্রেম শ্রাবণে ভরা নদীর ভরন্ত ঢেউ
শরতজুড়ে কাশের দোল ছলছল জলজুড়ে যুবতীচিহ্ন
পাড়ের মিলনে আজ আগমনী সুর

ফুল রাশি রাশি ফুলবাগানে মনের কোণে স্বপ্ন ভাসে
জীবনের যত আশার আড়ালে কিশোরী মাঠে বাঁকা চাঁদ হাসে

আলো রাতে মনে ছন্দ নাচে হাওয়ায় ওড়া কৃষ্ণচূড়ার ফুল
এর পরেই ওড়া মনের কোণে অধরা প্রেমপাশা করে দুল দুল

হৃদয় রাঙায়, গোলাপগুচ্ছ স্কুল ফেরৎ সফল জীবনে
কিশোরবেলার মন যেন অজান্তে মজে প্রকৃতি প্রেমে

একগোছা স্বপ্ন বুঝেছিলো চিঠির আবডালে প্রেমের কথা
গভীর আবেগের হাতছানিতে কিশোরী চাঁদ ভোলে নীরবতা

আজও ছেঁড়া কথার মালা হাতে মঙ্গলকামনায় মাতে নীরবতার গল্প
বুকে জাগায় অতৃপ্ত প্রথম আলো বাকিটা স্মৃতি মাখে অবসরে অল্প

মায়ের আঁচল চিরকাল বাঁচায় হৃদয় জমা বিষাদ বাঁশির সুর
কুঁকড়ে যাওয়া অতীত জানে অবুঝ বাল্যপ্রেম করে ঘুরঘুর

মানস উপন্যাসে লুকিয়ে থাকে বহু না পড়া বই লুকোনো খাতা
ঢাকা থাক আগুনচাপা হাসিতে গোপন পান্ডুলিপির যত পাতা।
প্রতিক্ষায় বসে আছে মোহনার মিলন একটা একটা করে ফুল খসে অসময়ে
তবু রাত জাগে অন্ধকারে শ্বাসকষ্ট বুকে নিয়ে সবাই একা ছোঁয় না কেউ ঝরে পড়া লাশ
অপেক্ষায় সাজায় গ্রীণরুম অন্ধকারের নাটক রামধনু সকালে পাহাড়ে ডানা গজায়
উড়ে যায় ময়ূরপঙ্খী জাহাজ গগনে গগনে কোয়ারান্টাইন সেবার আসরে মানুষের ঢল
সবাই আজ নেমেছে লোহিতসাগরের স্রোতে কখন আসে রাংতামোড়া বিষ ছোবলের রাত ঘরে ঘরে কর্মহীন প্রতিক্ষার প্রলাপ
কাজ না পেয়ে গামছা কোমর বাঁধে ভাদুরে রোদ ঠেলে একদল প্রেমিক
সঙ্গে কোদাল, কাস্তে আর হাসিমুখ ক্ষিদে ভুলে এগোয় সাহসি দুপুর একলা ভোট এলে হাতমুঠো উর্ধ্বমুখী হবে
এবার আসবে ভরা নদীর বাণে বাঘা যতীনের জাহাজ…

গৃহপাঠে প্রতিক্ষায় প্রেমিক- আকাশ জুড়ে দুটি ভরন্ত উল্কা

উড়ে যায় শরতের মুঠো মুঠো প্রেম সোহাগি সন্ধ্যার হাওয়ায়

আশার আসমানি আহ্বান হাতঘড়ি সময় পাঠের প্রেমিক

প্রেম সাহিত্য পড়ার পথে রজকিনী মায়ায় দৃষ্টি বিনিময়

অঙ্কের খাতাজুড়ে হিজিবিজি চিঠি ভালবাসা শেকল বুকে

গড়িয়ে পড়ে অশ্রু সাদা পাতাজুড়ে সোনালি স্বপ্নের পারিজাত

অভিভাবক ঘরে ঢোকে সাবধানী কাপ জুড়ে তৃপ্তির ঢেকুর

ঘরজুড়ে নীরবতা বন্ধ দরজা জুড়ে সাহসি আঙুলের খেলা

লিপ্তপদি ঠোঁট জুড়ে আনমনা কামড়ে কাঁপে হৃদয়জোড়া

ভিজে অনুভব বৃষ্টিশরীর জুড়ে, ফালি ফালি কলঙ্কবিহীন চাঁদ

পুরুষ ভূগোলজুড়ে স্মৃতিময় জীবনের পাঠে মগ্ন রাতের জিভ

কথা বলে চুপভাষা বোঝে শুধু কিশোরীর প্রেমজুড়ে খোলা এক মাঠ

দুরন্ত বিকেলে সঙ্গিনী তির তির নদী হয়ে বহে
এক রক্তবীজ সকালে তার বুকে পাহাড় বাধা দেয়
সহজ সকাল হারিয়ে যায় ফোঁটায় ফোঁটায়
হলুদ কলকে ফুলে মৌমাছি মধু খোঁজে
ফ্রক কখন শাড়ি হয়ে ফোটে
প্রতি পদে কাঁকড়ের শেকল জড়ায় চরণ
শীতল নদী পাড় ভাঙ্গে, ক্রমশ সংস্কারজালে হারিয়ে যায় মেয়েবেলা
বটবৃক্ষের শাখাপ্রশাখার মত শেকড়েবাকড়ে
আষ্টেপৃষ্ঠে ঝোলে রান্নাঘরের ঝুল
সকাল, বিকেল হারিয়ে গিয়ে শুধু শূণ্য দিবসে ভরন্ত চাঁদের কাড়াকুড়ি
পুতুলের কাদা -পায়েস লুকোচুরি পুজোবাড়ির শ্যাওলা হারায় স্মৃতির জারিজুরি
আমেের আচার আর লাফদড়ির কাঁপানো কথায়
ফিরে ফিরে আসে মেয়েবেলার স্মৃতি
ছেলেটার কান্না দেখে পরিবারে ঝগড়া থামে
শাঁখা খুলে উঠোনে পা বাড়ায় নিয়তির লিখন
কলহ অসুরের শরীরে হিংসা দানা বাঁধে
সন্দিগ্ধ রাত্রিজুড়ে
ছেলেটার চোখের জলে বাঁধ ভেঙে তৈরি হয় ভোরের স্বাবলম্বী রাস্তা
মা ছেলে বেড়িয়ে আসে রাজপথে খোলা হাওয়ায় শ্বাস নেয় মুক্তজীবন
কান্নাভেজা স্মৃতির রাস্তা ধরে তখনও হেঁটে চলে জ্যামিতিক বিন্দু পথ
ছেলেটার বাবা ফাঁকা মানিব্যাগের মত নিকষ আঁধার বয়ে বেড়ায় ঘৃণার দুপুর জুড়ে
রান্নাঘরের পুরোনো ঘ্রাণ, হা হুতাশ উদাস স্মৃতির উঠোন
মনখারাপের বকুল খোঁজে নরম চুড়ির মিষ্টি আওয়াজ
শয্যার ঘেসো সিঁথির পথশোভা হারিয়ে বিন্দু বিষ ভেজায় পাপোষ
বিনম্র এক নরম হৃদয়ে অশ্রু জড়ায় গভীর সন্তানস্নেহ
ভুল বোঝে দূরত্বের বিরহ জীবন।
চাঁদের ওপাড়ে গিয়ে দেখি স্বপ্নের তারাগুলো ঘুুমিয়ে পাহাড়চূড়ায়দূঃখ আর কষ্টগুলো তিলে তিলে জমেছে আশার ভাঁড়ে
ভাঁড়ের দয়ায় স্বপ্নবোঝাই একটা ট্রেন চলেছে হৃদয়জুড়ে
অপেক্ষার অবসানে আসে বৃষ্টিভেজার সময়

অকাল বোধন
সুদীপ ঘোষাল

সাদা কাশ বাগানে অপরিকল্পিত সৌন্দর্য
হেসে ওঠে নিয়মিত চৌকাঠ প্রহরে একচিলতে কুয়াশার আকাশে শীতল আহ্বান
কৌটোভরে রাখা ভালোবাসার টুকরো কথা
আজ বোধনে ম্লান হয়ে যায় শারদ শুভেচ্ছা
ঘরে ঘরে বাসা বাঁধে জ্বরের হাওয়ায় কাঁপানো তাপ
ছুটে আসে কালো জোব্বার প্রসারিত হাত
নিভে যায় আধফালি চাঁদ জোনাকি হেমন্তে
ভীষণ ঘোরলাগা মাতাল আঁধারে একাকি মোড়ক
পিন্ডি পুরোহিত ভোলে অস্পৃশ্য অদ্ভূত সত্যের হাত
একাকি বয়ে যায় গঙ্গার জলে ফেলা আধপোড়া নাভিকুণ্ডলী
অথচ ফুটপাত খিদেপেটে বিস্তর ফারাকে শোনে মরণের গান

পুজো পুজো শরতে উপোসি বিকেল একা
অসংলগ্ন এক বিস্তর মাটির চাদরে মোড়া রঙীন ফিতের আকাশ
ছেঁড়া ছেঁড়া কাগজের মেঘ, সারি সারি দূঃখের সাজি
আমন্ত্রণ ভোলে বোধনের ঢাক
নিঃশব্দ কাঁসির আওয়াজ
রাশি রাশি তরতাজা অসুখের ফুল
রাস্তাজুড়ে শেষ ডাকের খেয়াল

অকালবোধনে বাজে বিসর্জনের বাঁশি

সুদীপ ঘোষাল নন্দনপাড়া খাজুরডিহি
পূর্ববর্ধমান ৭১৩১৫০ মো ৮৩৯১৮৩৫৯০০.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top