নিজের মত বাঁচা

কারো কথায় কান না দিয়ে নিজের মত বাঁচা উচিত। কিন্তু নিজের মত বাঁচা অত সোজা না।
নিজের মত যা মনে হবে তাই করব, যা বলতে ইচ্ছে করবে তাই বলব, যা দেখতে ইচ্ছে হবে তাই দেখব, যা শুনতে ইচ্ছে হবে তাই শুনব, যা করতে ইচ্ছে হবে তাই করব তা কিন্তু নয়।
মানুষ মাত্রেই সমাজ বদ্ধ জীব। সমাজের সঙ্গে মানিয়ে বলা দেখা শোনা বা করা উচিত। তবে সমাজের মধ্যে অনেক সংস্কার কুসংস্কার বাসা বেঁধে বসে আছে। সে সব কিছুকে পরোয়া না করে বাঁচা যায়।
তবে তার জন্য একটা পর্যায় পর্যন্ত আপনাকে যেতে হবে। নিজের মধ্যে সেই পর্যায় তৈরি করতে হবে। শিক্ষা দীক্ষা জ্ঞান বোধ বুদ্ধি ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নিজেকে উন্নিত করতে হয়। তারপর আপনি বলতেই পারেন ‘আমি আমার মত চলব।’
না হলে কারো কথা না শুনে নিজের মত চলতে গিয়ে সেই যদি পিছলে পড়েন তখন কিন্তু আপনার পাশে কেউ থাকবে না।
কেন না মানুষের জীবন এমনই প্রতি পদে পদে নিজে পিছলে পড়ে কিংবা পেছন থেকে কেউ আপনাকে পিছলের ফেলে দিতে পারে। সে সব কিন্তু পার করার এবিলিটি যদি আপনি নিজের মধ্যে প্রস্তুত করতে পারেন তাহলে কারো কথায় কান না দিয়ে আপনি আপনার মত চলতেই পারে।
কিন্তু আমাদের সমাজে বহু মানুষকে দেখেছি শুধু সমাজকে লণ্ডভণ্ড করার জন্য, সমাজের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য, সামগ্রিক বাদ দিয়ে নিজেকে নিজে উপভোগ করার জন্য নিজের মত বাঁচে।
তাই নিজের মত বাঁচা বর্তমানে অনেকটা উৎশৃঙ্খল জীবন যাপনের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। কিছুটি না জেনে না বুঝে নিজের মত বাঁচতে গিয়ে নিজের এবং সমাজের পতন ডেকে আনছে। লোকের কথায় কান দেওয়া যেমন উচিত নয় তেমনই চোখ কান খোলা রেখে জীবন যাত্রায় এগিয়ে যাওয়া উচিত।
তুমি বলছ তাই মানব না, লোকে চলছে তাই চলব না অতএব আমি নিজের মত চলব তাহলে তা এ তরফা জীবন যাত্রায় একক চলা হয়ে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top