ভূড়িভোজ

বাঙালিপনায় মধ্যাহ্ন ভোজ বলে কথা!
সাত সকালে হেসেল সেরে রান্নায় ব্যাস্ত কর্তাবাবুর দাস-দাসিরা।

কর্তামহাশয় ভূ-পতি বলে কথা।

আদায়ের কাজ সেরে পাইক-পেয়াদাসমেত!
পশ্চিমের কাচারিঘরে হিসাব মেলাতে ব্যাস্ত।

খোস মেজাজে ছোট কর্তার হাক!
বৌঠাকুরণ কইগো? মধ্যাহ্নভোজে আজ কত পদ রাখলে?
হাক-ডাকে বৌঠাকুরণের বুঝতে বাকি রইল না আজ প্রজাপর্বে চিলেছে তলপেটে পড়েছে তীব্র লাথি।
রন্ধনশালা থেকে বৌঠাকুরণ!
ঠাকুরপো তোমার স্নানের ব্যাবস্থা রাখা আছে সৌচাগারে।
স্নান সেরেই বৈঠকখানায় চলে এস।
বেশ ভূড়িসমেত হেলেদুলে বৈঠকখানায়
৮-১০ পদ রেখেছত্ এবেলা? আর মাছের কালিয়া?
কই কই মন্ডাটা এই পাশেই রাখ।
আরে খাও খাও গিন্নি!
কব্জি পুরে খাও।
এটাত আমাদের বংশীয় ভোজগো, বৌঠাকুরণ।
দাও দাও চাটনিটা শেষপাতে দাও।

কর্তাবাবু গিন্নিসহ মধ্যাহ্নে বাঙালীপনার ভূড়িভোজ চলে নিয়মিত রাবড়ি-কলা আর সরপুরিয়া সমেত।
বৌঠাকুরণ বড় কর্তার সাথে নিজের ঠাকুরপোর প্রজাবিদ্রুপের পার্থক্যেএ কথা অন্তরালে আওড়াতে আওড়াতে!

অন্নাভাবে রাতের ঘুম আর আসে নি বিমলাদির দুচক্ষু অপলক।
লন্ঠনের মৃদু করুন আলোর সাথে পাল্লাদিয়ে চলতে থাকে ও পাড়ার গেরস্থের পরের বেলার অন্ন যোগাড়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top