মা হওয়া

#মা_হওয়া
#শম্পা_সাহা

“ওমা কি সুন্দর মেয়েটা তোমার!সত‍্যি যেন পুতুল!”

ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ছোট জায়ের মেয়েকে নিয়ে সবাই আদর করছে।কখনো কোলে নিচ্ছে পিসীমনি,”এই দ‍্যাখো বাবু,আমি পিতি হই পিতি!”

বিতান ও কোলে নেয় ফুলের মত ভাইয়ের মেয়েটাকে।আদরে আদরে ভরিয়ে দেয় ।তার পর পকেট থেকে একটা ছোট্ট কৌটো খুলে সোনার হারটা মধু মানে মধুরিমার হাতে দিয়ে বলে,”এই নাও,ফুল কে পরিয়ে দাও!”

আনন্দ ঠিকরে পড়ে মধুরিমার চোখে মুখে।সে উঠতে গিয়েই আবার আঃ করে বসে পড়ে।সবাই ওর কাতর শব্দ শুনে হাই হাই করে ওঠে।তুমি উঠোনা ,তুমি উঠোনা।

বিতানের টিফিন প‍্যাক করে ,ছোট জায়ের সব ব‍্যবস্থা নিজে হাতে করে তবে অফিস বেরোয় কাকলি।যদিও সব সময়ের আয়া আছে তবু শাশুড়ী এমনকি বিতান নিজেও চায় কাকলিই মধুরিমার দেখভাল করুক।এমনকি মধুর বাচ্চা হওয়া থেকে সাতদিন কাকলি ছুটি নেয়।সে অবশ‍্য ভালোবেসেই।

সে যে স্বাদ থেকে বঞ্চিত তাতে মধুরিমা সমৃদ্ধ।একটু যে খারাপ লাগে না তা নয়।তবু এই ছোট ভাবনা ও প্রশয় দিতে চায়না।

কিন্তু সেদিন অফিস থেকে ফিরে,হাতপা ধুয়ে তাড়াতাড়ি মধুরিমার ঘরে চা দিতে গিয়ে শুনতে পায় পিসি শাশুড়ির বক্তব‍্য,”বড় বৌমাকে বেশি বাচ্চা ছুঁতে দিও না।নজর লাগতে পারে।আর শোনো ও খুব একটা ভালো মানুষ তো নয়।আর জন্মের পাপ ছিল তাই এ জন্মে বাঁজা হয়ে জন্মেছে।”

ছুটে বেড়িয়ে আসছিল,চোখ জ্বালা করছে কাকলির।যে জিনিসের ওপর ওর তার হাত নেই তাতেও ওরই দোষ ।কিন্তু মধুর গলা শুনে থমকে দাঁড়ায়।

“দিদিভাই যথেষ্ট ভালো পিসীমা! আমার আর মেয়ের জন‍্য যা করলো!সত‍্যি!আমার মা তো বাতের ব‍্যথা বলে আমাকে নিয়েই গেলো না !”

“থামো তো!তুমি নতুন বৌ,তুমি কি বোঝো?শত ভাগ‍্যে মা হওয়া যায়!মা না হলে মেয়ে মানুষের জীবনের আর কি মূল‍্য? ও জীবন থাকা না থাকা দুইই সমান।আর তাছাড়া শরীর গেলে ওই ছেলেমেয়েরাই তো স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কটা বেঁধে রাখে!”

“পিসীমা,সন্তান হওয়া না হওয়া দুটোতেই কারো হাত নেই।আর দিদিভাই কেন দোষ তো দাদাভাই এর ও থাকতে পারে।তা ছাড়া ছেলেমেয়ে মানুষ করা ছাড়াও একজন মহিলার আরো অনেক কাজ আছে।সারা পৃথিবীতে বহু মেয়ে দেশ ,রাজ‍্য সামলাচ্ছে।তাই সন্তান না হলে জীবন বৃথা এ কথা ঠিক নয়। আর ফুল তো রইলোই।দিদিভাইও তো ওর মা!”

“তোমাদের বাপু বড় কথা।এখন খুব পিরীত।দুদিন বাদে বুঝবে,যখন পিরীত চটবে!” পিসী শাশুড়ির বক্তব্যে এবার মধুরিমার ভীষণ রাগ হয়।ও স্পষ্ট উচ্চারণে বলে মা হওয়া একটা খুব সাধারণ ঘটনা।হলে যেমন বাহাদুরীর কিছু নেই তেমনি না হলেও তা মোটেই লজ্জার নয়।আজ যুগ যুগ ধরে মেয়েরা মা হয়ে আসছে,তাতে তাদের শিং ,ল‍্যাজ কিছুই গজায় নি।এমনকি আপনি পাঁচ পাঁচটা বাচ্চার মা হয়েও তো কারো সম্পর্কে ভালো ভাবতে শেখেননি।”

আরো বলতো মধুরিমা,কিন্তু তার আগেই পিসী শাশুড়ি দপদপ করতে করতে গিয়ে শাশুড়ির কাছে দরবার করতে লেগেছে।তা ভালোই জানে মধুরিমা।

“দিদিভাই, এসো”,কাকলিকে ঘরে ডাকে মধু।

“তুই কি করে বুঝলি আমি এসেছি?”

“বারে!এই সময় তো রোজই তুমি আমায় চা দাও!”,
ঘড়িতে তখন ঠিক সাতটা বাজে।

©®

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top