সবুজ বাতি

ছোট গল্পঃ সবুজ বাতি – লেখিকাঃ সুইটি খাতুন
শিক্ষার্থীঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ভোর ৪ টা ১৫ বাজে। আয়ানের নামের পাশে সবুজ বাতিটা আলোকিত হয়ে আছে। অনবরত জ্বলন্ত হয়ে আছে প্রদীপের ন্যায়।আয়ানের সাথে আলোর পরিচয় এইতো গত রমজানেই।তবে সেটা ফেসবুক দিয়ে শুরু না -পারিবারিক সূত্রে- সত্য বলতে বিবাহ সমন্ধে।

আজকাল তো আমরা হুট করেই বিয়েটা করতে পারিনা। যেমন ডিজিটাল যুগ তেমনই চিন্তাধারা আমাদের। আয়ান ও আলোর ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রমটা নয়। পারিবারিকভাবে কথা চললেও ভিতর ভিতর ঠিকই আয়ান- আলো পরিচিত হতে থাকে ফেসবুকে কথোপকথনের মাধ্যমে।

আয়ান একজন অপরিচিত মানুষ তবুও কেমন করে যেন পরিচিত হয়ে উঠল আলোর কাছে। নিত্য দিনের কথোপকথন একে অপরকে কাছে টানছে, সবচেয়ে বেশি কাছে টানছে দুটো Positive Thinking
একে অপরের প্রতি । প্রথমত, আয়ানের আলোর ছোঁয়ায় কোরআন শিখতে চাওয়া।

সেহরির পর থেকে শুভ্র আকাশ দেখা অব্দি হররোজ কথা হতে থাকে ওদের। একে অপরের জন্য ওয়েটিং এ থাকা শুরু করে তারা। কখন সবুজ বাতি জ্বলে উঠবে আলো আয়ানের?

একে অপরের পছন্দ-অপছন্দ তারা জানতে শুরু করে even future planning ও করে বসে, কত কি যে ভাবতে থাকে,একে অপরের অগোচরে।

কিভাবে কি যেন হয়ে গেল, একে অপরের প্রতি অপরূপ এক মায়া তৈরি হলো। এই অনুভূতি মায়ার নাম কি আলো-আয়ান কেউ জানে না! শুধু জানে মায়া নাকি সকল কিছুর ঊর্ধ্বে বাস করে। আর সেই মায়ায় তারা আটকে গেছে ছিদ্রহীন জালের ন্যায়। হয়তো আজ মায়াটা ঘিরে আছে ছোট্ট এক বটগাছকে আঁকড়ে।

রমজান পেরিয়ে শাওয়ালের দেখা মিললো। আলো আয়ানের পরিচয় ফেসবুকের কোণায় সীমাবদ্ধ রইল। পার্থক্য শুধু তাদের দুটি মনের, একটি কোন তৈরি হয়েছে।

আলো আয়ানের কাছে বায়না করে, আচ্ছা শাওয়াল মাস তো পেরিয়ে গেল আমরা আগামী শাওয়ালেই না হয় বিয়েটা করি? কেননা শাওয়াল মাসে বিয়ে করা সুন্নত।

আলো আয়ান চায় নতুন এক পরবর্তী রমজান, এক সেহরি, এক শুভ্র আকাশ, সাথে আলো আয়ানের ফিরে পাওয়া সবুজ বাতি।

এখনও তো ভোর হয়, আকাশ শুভ্র হয়, নামের পাশে সবুজ বাতিটা প্রদ্বীপের ন্যায় জলে ওঠে, অপেক্ষাটা হয়তো অনেক বেশি তীব্র!

শুধু প্রশ্ন একটাই, হয় কি কোন কথোপকথন?

আবারও রমজান পেরিয়ে আসছে তো শাওয়াল। তবে আজ কেন আয়ানের মনে প্রশ্ন, ” বাতি খুজে কি হবে মানুষটিকে হারিয়ে?”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top