সাহচর্য

#সাহচর্য
#শম্পা_সাহা

আমরা বিয়ে কেন করি? ভারতবর্ষে অবশ‍্য আগে পুত্রার্থ ক্রিয়তে ভার্যা প্রচলিত ছিল।কিন্তু এখন বেশিরভাগটাই পুত্র হোক বা না হোক শারীরিক সম্পর্কটাই বড় কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।না শরীর অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই।মানুষ থাকলে শারীরিক চাহিদা থাকবে এবং সেটাই খুব স্বাভাবিক।

কিন্তু সেটা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিবাহের মূল উদ্দেশ্য যেন হয়ে না যায়।তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিয়ের বেশ কয়েক বছর পর স্বামী বা স্ত্রী এরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্পর্কটা চলছে বলে চালান ।কিন্তু তাতে প্রাণ থাকে না।আমাদের দেশে বিয়ের কিছুদিন পর একটা বা দুটো সন্তান হয়ে গেলেই আমরা আমাদের বলে আর কিছু রাখি না।

পুরোটা জুড়েই থাকে ছেলে মেয়ে পরিবার সংসার।সব সব দরকার।কিন্তু তারপরেও কি কোনো ফাঁকা জায়গা থাকে না?একবারও কি মনে হয় না ,ইস্ কেউ যদি থাকতো যে হাতটা ধরে বলতো ,”কেমন আছো?”,শরীর খারাপ হলে একদিন ছুটি নিয়ে একটু কনসার্ন দেখাতো!এখানে নারী পুরুষ কোনও ভেদ নেই।সবাই চায় একটু আদর,একটু উষ্ণতা, একটু সাহচর্য, একটু পরিচর্যা।

কিন্তু বাস্তবে তা হয় না।তখন স্বামী স্ত্রী একে অপরকে টেকেন ফর গ্ৰান্টড ভেবে ফেলেন।মেয়েদের ক্ষেত্রে তো আরো বেশি।ফলে অমুক দা তমুক বৌদি কে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন আর অমুক বৌদি সিরিয়াল, সিনেমার ভালোবাসা দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবেন ইস আমার ও যদি হতো!

না সবাই নয় তা বলে!অনেক স্বামী বা স্ত্রী আজকাল সংসার ও সম্পর্ক দুটোকেই গুরুত্ব দেন তবে তারা কত শতাংশ?যদিও সংসার সম্পর্ক দুটো অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত কিন্তু এক সময় সংসারের চাপে সম্পর্কের দম আটকে যায়!

তাতে ধীরে ধীরে পুরুষরা বাইরে তাস,আড্ডা তে ব‍্যস্ত হয়ে পড়েন আর মহিলারা ঘরের কোণে।চাকুরীরতাদের তাও বাইরের জগৎ আছে কিন্তু হাউস ওয়াইফ যারা।তারা অনেকেই সবাই নন,কিন্তু অধিকাংশই হীনমন্যতায় ভোগেন।এর সঙ্গে সঙ্গে মেনোপজ তাদের আরো একা করে দেয়।ছেলে মেয়েরা বড় হয়ে যায় ফলে মা একা হয়ে পড়েন।

একটু চেষ্টা করলেই কিন্তু সম্পর্ক সজীব হতে পারে।একটু একসাথে বসা প্রতি সন্ধ‍্যাতে ,চা খাওয়া।মাসে একবার নিজেরা ঘুরতে যাওয়া।প্রিয় কোনও সিনেমা একসাথে দেখা।প্রথম প্রথম একটু অস্বস্তি হবে কিন্তু এক সময় সেটাই ভালো লাগবে।নিজেকে ভালো রাখতে ইচ্ছে করবে।

নিজের প্রিয় মানুষটির মধ‍্যেই খুঁজে বার করুন নতুন নতুন মানুষ।জানি কাজটা সহজ নয়।কারণ আমরা এভাবে ভাবতে অভ‍্যস্ত নই।মিডল এজেও যে লাভ লাইফ থাকতে পারে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো স্পষ্ট ধারনাই নেই বা থাকলেও আমাদের মানতে একটু কিন্তু কিন্তু কারো কারো মধ্যে আছে।

অনেকেই আবার বলেন,”এই বয়সে ওসব আবার কি?” ভালোবাসা সব বয়সে দরকার।আর প্রিয় মানুষটার সাহচর্য তো মৃত্যু পর্যন্ত।

তাই যেমন আমরা যৌবনে যৌনতার নেশায় বুঁদ হয়ে ভালোবাসি ,বার্ধক্যে না হয় সঙ্গ কে ভালোবাসবো।যৌবনে যেমন সুন্দর ত্বক দেখে ভালোবাসতাম বার্ধক্যে বা একটু বয়সে গরম চায়ের উষ্ণতায় বা প্রিয় গানের ছন্দ ভাগ করে ভালোবাসবো।আগে যেমন উদ্দাম ছিলাম বিছানায় এখনো তেমনি নিজেকে বিলিয়ে দেবো আবারো বিছানায় অপর জনের অসুস্থতায় তার পাশে থেকে।যাতে একাকীত্ব কাউকে, কাউকেই গ্ৰাস না করতে পারে।আসলে সর্বোপরি পরিবার, সম্পর্ক, ভালোবাসা,সাহচর্য যে বড্ড জরুরি।

©®

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top