হিংসা

#হিংসা
#শম্পা_সাহা

“রাধে রাধে,মা দুটো ভিক্ষা পাই মা…”

“ওই আপদটা রোজ ঠিক এই ভর দুপুরেই আসে ভিক্ষা করতে গা জ্বলে যায়!মনে হয় মুড়ো ঝাঁটা দিয়ে দিই বারি…”

রাগে গজগজ করতে করতে একটা ছোট্ট বাটিতে এক মুঠো চাল আর তস‍্য ছোট্ট আলু নিয়ে সৌদামিনি ভিক্ষা দিতে আসে।

না দিয়ে যে উপায় নেই যে! বুড়ি শাশুড়ি যেমন মুখরা তেমন দজ্জাল।ভিখিরি ফেরালে নাকি সংসারের অমঙ্গল হয়।তাই যত কাজই থাকুক ভিখিরি ফেরানো যাবে না!

একতাল গোবর নাদা থাবড়ে থাবড়ে রান্নাঘরের দেওয়ালে ঘুঁটে দিচ্ছিল সৌদামিনি।তাই হাত ধুয়ে আসতে গিয়ে তাড়াতাড়িতে নিজের ফেলা জলে নিছেই আছাড় খাবার উপক্রম।

“তুমি একটু সকাল সকাল আসতে পারো না”, গলায় উষ্মা ঝরে পড়ে স্পষ্ট।বৃদ্ধ শতছিন্ন নোংরা সাদা কাপড়ের ঝোলাটা এগিয়ে দিতে দিতে বলে,

“কি করবো মা,আমার বামনী যে চোখে দেখে না।রেঁধে বেড়ে তাকে নাইয়ে খাইয়ে তবে এই দুটো ভিক্ষেতে বেড়োই ।তাই দেরি হয়ে যায় মা!

সৌদামিনি বাটির চাল আলু ঢেলে বৃদ্ধর দিকে তাকায়।হত দরিদ্র চেহারা, শত ছিন্ন,হাজার জায়গায় তাপ্পি মারা একটা সাদা ফতুয়া,আর প্রায় কালচে হয়ে আসা ধুতি।গলায় তুলসী কাঠের মালা,কপালে তিলকও তার চরম দারিদ্র্য ঢাকতে পারে নি।তবু তার অন্ধ স্ত্রীর জন্য এত প্রেম!

সঙ্গে সঙ্গেই হরেণকে মনে পড়ে ,তেল চপচপে মাথা, বিরাট ভুড়ি,সারাদিন ভূষিমালের ব‍্যবসা সামলে রাতে গিয়ে পড়ে থাকে খারাপ পাড়ার বাতাসীর কাছে।

এই মুহুর্তে সৌদামিনির সেই না দেখা অন্ধ ভিক্ষুকের স্ত্রী কে বড্ড হিংসে হয়।ইস্ তার ও যদি এমন একটা স্বামী থাকতো!হোক ভিখিরি ভালোবাসা, আদর,সোহাগটাতো পেত! যার আশা এ জন্মের মত সে ত‍্যাগ করেছে!

©®

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top